ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও আয়োজক শহরগুলিতে ইতিমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। হোটেল, পর্যটন, পরিবহন কিংবা বিনোদন শিল্পের পাশাপাশি এবার আলোচনায় এসেছে এসকর্ট পরিষেবা খাতও। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সি অঞ্চলে কর্মরত কিছু এসকর্ট কর্মীর দাবি, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাঁদের কাছে আগাম বুকিং এবং নতুন ক্লায়েন্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
তবে এই বাড়তি তৎপরতার পাশাপাশি মানবপাচার ও যৌন শোষণের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি।
বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়ছে দর্শকের ভিড়
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম। সেখানে টুর্নামেন্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং ফাইনাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের অনুমান, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চলে বিশ্বকাপ চলাকালীন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১২ লক্ষ দর্শক আসতে পারেন। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি অন্যান্য পরিষেবা খাতেও বাড়তি চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
এসকর্ট কর্মীদের দাবি, বেড়েছে আগ্রহ
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কিছু এসকর্ট কর্মী ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগাম বুকিং পেতে শুরু করেছেন।
তাঁদের দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগের সংখ্যা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটক এবং নতুন গ্রাহকদের আগ্রহ বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
কিছু কর্মীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ চলাকালীন স্বল্প সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসা দর্শকদের কাছ থেকেও পরিষেবার অনুরোধ আসছে।
অর্থনীতিতে বড় প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, অলিম্পিক, বিশ্বকাপ কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের সময় আয়োজক শহরগুলিতে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হয়। শুধু আনুষ্ঠানিক ব্যবসাই নয়, বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক পরিষেবা খাতেও লেনদেন বৃদ্ধি পায়।
পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিনোদন এবং বিভিন্ন সেবামূলক খাতেও সাময়িক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
মানবপাচার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
তবে প্রশাসনের দৃষ্টি এখন অন্য একটি গুরুতর বিষয়ের দিকে—মানবপাচার।
নিউ জার্সির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময় অপরাধচক্রগুলো সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে যৌন ও শ্রমভিত্তিক মানবপাচারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এই কারণে বিশ্বকাপ উপলক্ষে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধ দমন সংস্থাগুলিও ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের মতে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিপুল অর্থনৈতিক কার্যকলাপের সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বক্তব্য, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, হোটেল শিল্প, পরিবহন খাত এবং সাধারণ নাগরিকদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
নিরাপত্তা বনাম অর্থনৈতিক সুযোগ
বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক আসর আয়োজক শহরগুলোর জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু সেই সঙ্গে বেড়ে যায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও।
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বর্তমানে ঠিক সেই দুই বিপরীত বাস্তবতাই দেখা যাচ্ছে—একদিকে ব্যবসা ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা, অন্যদিকে মানবপাচার ও শোষণ প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতা।
সামনে কী?
বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন যত এগোবে, ততই বাড়বে বিদেশি পর্যটকদের আগমন। ফলে বিভিন্ন খাতে অর্থনৈতিক গতি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, বিশ্বকাপকে ঘিরে কোনও ধরনের মানবপাচার, যৌন শোষণ বা সংগঠিত অপরাধের সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর শুরু হওয়ার আগেই তাই নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।